Friday, March 6, 2020

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা-শুধুই কি একজন অধিনায়ক ছিলেন ?

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে বিশাল জয় বাংলাদেশের 

 মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা -শুধুই কি একজন অধিনায়ক ছিলেন ?  আজ আমরা এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে দেখবো ।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার তাঁর   যোগ্য নেতৃত্বের গুণে  একজন সফল অধিনায়ক হিসাবে ক্রিকেট বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন   উচ্চতার শিখরে।  এক সময় ক্রিকেট বাংলাদেশকে নিয়ে যারা নানা মন্তব্য ছুঁড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না - আজ তারাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কারন ক্রিকেট বাংলাদেশ যে কোন সময় কোন দলকে হারানোর সক্ষমতা   অর্জন করেছেন।
তাই যখন কোন দেশের সাথে ক্রিকেট খেলা শুরু হয় প্রতিপক্ষ দল আতংকে থাকে কখন  কি যেন করে ফেলেন বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা। নতুন প্রজন্ম আরও বেশী শক্তিশালী; আরও বেশী পরিপক্কতা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি সময়ে বিশ্বকাপ চাম্পিয়নই হওয়া  তার প্রমান পাওয়া যায় । এসব সম্ভব হয়েছে - একজন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা প্রেরনায়। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে  শুধু একজন অধিনায়ক হিসাবে মূল্যায়ন করা হলে পূর্নতা পাবে না- তিনি ক্রিকেট বাংলাদেশের একজন প্রেরনা। তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়; কিভাবে যুদ্ধ করে জিততে হয়; কিভাবে ইনজুরি মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আমাদেরকে জিততে শিখিয়েছেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার  সবচেয়ে বড় গুন খুব ঠান্ডা মাথায় সবকিছু মোকাবেলা করে সামনের  দিকে   এগিয়ে চলার  একটা প্রবনতা । ক্রিকেটে আমরা অনেককে ধৈর্যহারা হয়ে খারাপ আচারন করতে দেখেছি- কিন্তু একমাত্র মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে কখনো ধৈর্যহারা হয়ে রাগতে দেখিনি।
ক্রিকেট বাংলাদেশকে  সম্মানের শিখরে পৌঁছে দিয়ে   একটি আদর্শ  তৈরি করে দিয়েছেন- তাই আজ নতুন প্রজন্মের কাছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা একজন শুধু অধিনায়ক হিসাবেই নয় একজন আদর্শ অধিনায়ক তথা মহানায়ক হিসাবে তার পথ অনুসরন করবেন।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ক্রিকেট বাংলাদেশের রেঁনেসা হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন- আগামী বছরগুলোতে এই রকম একজন মাশরাফী আসবেন কিনা - সময়ই তার মূল্যায়ন করবেন।
সকলকে আপন করে ফেলা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার  আরও একটি বড় গুন । নিজ দলের ছাড়াও অন্য দলের  খেলোয়ারদেরও আপন ভেবে চলাফেরা করতেন। এমনকি ভক্তদেরও তিনি আপন ভাবতেন সবসময়। তারই প্রমান পাওয়া যায়   তার এক ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তাকে নিরাপত্তা কর্মীরা যাহাতে কোন ব্যবস্থা না নেন  সেইজন্য তাকে নিজে ধরে নিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিলেন । এমনি অনেক উদাহরন   আমরা দেখতে পাই তার আচারনে  তিনি কতটা ধৈর্যশীল ছিলেন।

ক্রিকেট, মাশরাফি
এভাবে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন  মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ক্রিকেট ভক্ত।


মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা-  ক্রিকেট অধিনায়ক হিসাবে  
এক মহানায়কের প্রস্থানঃ 

 একজন ক্রিকেট অধিনায়ক হয়তো আসবেন আগামী দিনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য- কিন্তু একজন লড়াকু, একজন প্রেরনা জোগানো, একজন জিততে শিখানো অধিনায়ক ; আদর দিয়ে সকলের কাছ থেকে কাংখিত খেলা  আদায় করার কৌশল- আর মনে হয় একজনের পক্ষে এই সকল গুনাবলী অর্জন করা সম্ভবপর নাও হতে পারে। কাজেই এক ধরনের শুন্যতা  তৈরি হবে ক্রিকেট বাংলাদেশে।  তাই মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা অধিনায়ক হিসাবে বিদায় মানি এক ক্রিকেট মহানায়কের বিদায় হিসাবে দেখছেন ক্রিকেট ভক্তরা।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ক্রিকেট অধিনায়ক হিসাবে  ক্যারিয়ারঃ

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ক্রিকেটের তিন ফরমেটে ১১৬ ম্যাচে অধিনায়ক হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।  ৬০টি ম্যাচে জয় লাভ করেছেন এবং ৫৩টি ম্যাচে হেরেছেন অধিনায়ক হিসাবে । অধিনায়ক হিসাবে সাফল্যের   গড় ৫৬.৩২%। একজন অধিনায়ক হিসাবে ১০০টি উইকেট অর্জন করা বিশ্ব ক্রিকেটে আর মাত্র ৪ জনের রয়েছেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা  এখনো ফর্মে রয়েছেন। তিনি আরো কিছুদিন ক্রিকেট খেলবেন- এমনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ফর্মে থাকা অবস্থায় এইভাবে অধিনায়ক হতে  সম্মান নিয়ে বিদায় লওয়া  খুব কম অধিনায়কের কৃতৃত্ব রয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই- বেশীর ভাগ অধিনায়কের  মাঠ থেকে বিদায় লওয়ার ভাগ্য হয় না। ফর্ম খারাপ হওয়ার সাথে সাথে তার অধিনায়কত্ব কেড়ে লওয়া হয়। সাধারনত টেবিলে বসে বসে অধিনায়কত্ব রদবদল করে থাকেন প্রত্যেক দেশের বোর্ডের হর্তাকর্তাগণ। কাজেই মাঠ থেকে বিদায লওয়ার সময়ও তাদের ভাগ্যে জুটে না।  ভারত পাকিস্থানের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই কিভাবে তাঁরা বিদায় নিয়েছেন । একমাত্র মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ব্যতিক্রম - শুধুমাত্র তাঁর নেতৃত্বের গুণে এবং ক্রিকেট বাংলাদেশকে যে স্থানে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন- তাঁর সতীর্থরা তাঁকে সেইভাবে বিদায় দিয়েছেন - শুধু আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে নয়- যার যার প্রারফমেন্স দিয়ে ; খেলার মাধ্যমে  এবং  বিদায় বেলায় বেশ কয়েকটি রেকর্ড করে করে ।

 ক্রিকেট বাংলাদেশে  একজন কিংবদন্তী হয়ে থাকবেন ; যাকে সবাই ক্রিকেটের  মহানায়ক বলে সম্ভোধন করবেন , তিনি সবার প্রিয় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ।  একজন সফল অধিনায়ক হিসাবে ক্রিকেটের সকল ফরমেট এ সমানভাবে নেতৃত্ব দিয়ে  সফলতার স্বাক্ষর রেখে বিদায় নিয়েছেন।


সতীর্থরা যেভাবে বিদায় দিলেন তাঁদের প্রিয় অধিনায়ককেঃ

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে যেভাবে খেলার মাধ্যমে এবং আনু্ষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিদায় দিয়েছেন তা চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে। ক্রিকেট মাঠে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা পদচারণা সকলকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন- সর্তীথরা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করছেন।



বাংলাদেশের জয়টা ছিল সময়ের ব্যাপার। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ইয়ার্কারে চার্লটন শুমারের স্টাম্প উপড়ে গেল। ম্যাচ শেষ। তখন কাভারে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা। সতীর্থরা এগিয়ে এলেন,জড়িয়ে ধরলেন তাদের প্রিয় বড় ভাই, প্রিয় নেতাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যিনি এতদিন কাঁধে তুলে এগিয়ে নিয়েছেন; এবার তাকে কাঁধে তুলে নিলেন তামিম-মাহমুদুল্লাহরা। তামিমের কাঁধে চড়ে গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন মাশরাফি। এরপর মাশরাফিকে বাউন্ডারি লাইনের ঠিক বাইরে কাঁধ থেকে নামানো হয়।

অধিনায়ককে বাইরে রেখে ড্রেসিংরুমে চলে যায় দল। সেখানে নিজেদের জার্সি পাল্টে সব খেলোয়াড় গায়ে চাপালেন বিশেষ জার্সি। যার সামনে লেখা ‘থ্যাঙ্ক ইউ ক্যাপ্টেন’, পেছনে মাশরাফির নাম ও নম্বর।
মাশরাফির ২ নম্বর জার্সিটি ট্রেডমার্ক হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। সেটাই বোঝাতেই এক মুহূর্তের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা হয়ে গেলেন ‘মাশরাফি’।
সতীর্থদের এমন আয়োজনে চমকে গিয়েছিলেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় সম্মানের। আমি জানতাম না ওরা এরকম চমক রেখেছে আমার জন্য। তবে মাঠেই সম্ভবত বড় উপহারটা পেয়েছি (দলের জয়)। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। আমার ছেলেদের ধন্যবাদ। সবাই ছিল দারুণ।’



নেতৃত্বের শেষ ম্যাচে সাকিবকে মিস করেছেন মাশরাফিঃ
প্রায় দেড় যুগ একসঙ্গে খেলেছেন দু’জন। নেতৃত্ব ছাড়ার ম্যাচে মাশরাফি পেলেন না সাকিবকে। সবার মাঝে সাকিবকে মিস করেছেন দেশের সফলতম অধিনায়ক।
জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় সাকিব আল হাসানকে একবছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি। এই সময়ে ক্রিকেটের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না সাকিব। এমনকি স্টেডিয়ামে আসার ব্যাপারেও রয়েছে বিধিনিষেধ। তা না হলে হয়তো অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে ম্যাঠেই থাকতেন সকিব।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সুবাদে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০তম জয়ের স্বাদও পেয়েছেন মাশরাফি। ম্যাচ শেষে মাশরাফি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে স্মরণীয় পথচলায় ভূমিকা রাখায় ধন্যবাদ প্রাপ্য তার সব সতীর্থের।  
আলাদা করে তিনি বলেছেন সাকিবের কথা, ‘এটা অনেক বড় সম্মানের। ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। তারা দলের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমি দলের সব ছেলেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে সাকিবকে। সে যদি এখানে থাকত, তাহলে বিষয়টা অন্যরকম হতো। সবাইকে ধন্যবাদ।’
অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচের আগের দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাকিব। সেখানে মাশরাফিকে ‘সত্যিকারের নেতা’ আখ্যায়িত করে ‘প্রিয় ভাই’ হিসেবে সব সময় পাশে চেয়েছেন সাকিব। 

 



লিটন আর বিরাট কোহলির ব্যাটিং সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে মাশরাফিকেঃ


২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ওয়ানডে অভিষেক লিটন দাসের। অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে খেললেন ১৭৬ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস। লিটনের নান্দনিক ব্যাটিংয়ের মাধুর্য সব সময় নজর কাড়ে ভক্ত-সমর্থকদের। মাশরাফিও লিটনের ভক্তদের মধ্যে অন্যতম।
ম্যাচ শেষে লিটনকে সঙ্গে করে সংবাদ সম্মেলনে এলেন মাশরাফি। প্রশংসায় ভাসালেন টাইগার ওপেনারকে। মাশরাফি বলেন, ‘আমার দুজন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দেখতে সবসময় ভালো লাগে একটা হচ্ছে বিরাট কোহলি আরেকটা হচ্ছে লিটন। সবসময় বলি, অনেকেই ভালো প্লেয়ার আছে। কিন্তু যতক্ষণ উইকেটে থাকে দেখতে ভালো লাগে, আমি লিটনকে এটা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি।'
‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি লিটন শুধু উইকেটে থেকে খেলা সেটা না, লিটন মোমেন্টাম বদলে দিতে পারে।

নিজের জন্য কখনোই খেলেনিঃ

নিজের জন্য কখনোই খেলেনি
মাশরাফির মা হামিদা মুর্তজা
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ছেলে মাশরাফি বিন মুর্তজার শেষ ম্যাচ দেখতে গতকাল সকালেই নড়াইল থেকে সিলেটে উড়ে গেছেন গোলাম মুর্তজা স্বপন। ছোটো ভাই মোরসালিন মুর্তজা ও নড়াইল থেকে মাশরাফির বন্ধুরাও হাজির হয়েছিলেন সিলেটের গ্যালারিতে। নড়াইল শহরের মহিষাখোলার ডুপ্লেক্স বাড়িতে বসে টিভি স্ক্রিনে চোখ রাখছিলেন হামিদা মুর্তজা। মাশরাফির স্ত্রী, ছেলে-মেয়েও ঢাকার বাসায় ছিল। তারাও সিলেটমুখী হয়নি।
গতকাল বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার সময়টাতে মুঠোফোনে পাওয়া গেল হামিদা মুর্তজাকে। ফোনের ওপ্রান্তে কণ্ঠটা একটুও ভারী মনে হয়নি। কোনো ধরনের আড়ষ্টতাও ধরা পড়েনি। বরং প্রকৃতির নিয়মের মতোই অধিনায়ক হিসেবে ছেলের বিদায়কে বরণ করলেন তিনি।
গত ৫ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছিলেন, ঘুম থেকে উঠেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং দুপুরে জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আগের দিনও পরিবারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেননি। গতকাল হামিদা মুর্তজার কথায়ও যার সত্যতা পাওয়া গেল।
মাশরাফির মা বলছিলেন, ‘সে ঘুম থেকে উঠেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবে। প্রত্যেক দিনই আমাকে বলে যায় যে, আম্মা আমি মাঠে যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করো। কালকেও (৫ মার্চ) সে একই নিয়মে বলছে যে আম্মা আমি অধিনায়কত্ব থেকে অবসর নেব। আমি মাঠে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আজকে আমি বলে দেব। তুমি দোয়া করো। এটুকুই আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাছাড়া আর কোনো কথা হয়নি। এবং আমাকে, ওর আব্বাকে, ওর মামাকে, ওর বন্ধু-বান্ধব সবাইকেই বলছে যখন এই সিদ্ধান্ত ও নিছে যে, অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবে। সবাইকে বলছে।’
তৃতীয় দফায় টানা ছয় বছর বাংলাদেশের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন মাশরাফি। গত এক বছর ধরে ধেয়ে আসা আলোচনার ঝড় থামিয়ে নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ছেলের ক্যারিয়ারের শেষের শুরু দেখে হামিদা মুর্তজার ভেতরটা ঠিকই কেঁপেছে। যা প্রকাশেও রাগঢাক করেননি। গতকাল বলেছেন, ‘বুঝেন তো দীর্ঘ ছয়টা বছর অধিনায়কত্ব করছে। এখন অবসর নিল। একটু খারাপ তো লাগেই। এটা তো বুঝেনই। এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। সবারই বোঝা উচিত। এখন খারাপ লাগলে তো সবকিছু চলবে না। এটাকে তো মেনে নিতেই হবে।’
তবে নিজের ভেতরকে আড়াল করে মায়ের গভীর মমতার চাদরে ঠাঁই দিচ্ছেন ছেলের সিদ্ধান্তকে। মাশরাফির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে হামিদা মুর্তজা বলেছেন, ‘কেন স্বাগত জানাব না? নতুন অধিনায়ক আসুক। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ, নতুন অধিনায়কের হাত ধরে খেলবে বাংলাদেশ। ওরটা তো ছাড়তেই হবে, আজকে হোক, কালকে হোক ছাড়তেই হবে। আগেই ছেড়ে দিল। সম্মানের সঙ্গে ছাড়াটাই সবচেয়ে উত্তম। নিজের সম্মান নিয়ে সরে দাঁড়ানোটাই সবথেকে উত্তম। সেটাই করছে।’
মাশরাফির নেতৃত্বের পরশ পাথর বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ২০১৪ সালে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন তিনি। দিন বদলের নেতা বলা হয় তাকে। দেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের তকমাও তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছে। লাল-সবুজ জার্সিতে ছেলের অর্জন মায়ের মনকে গর্বের আনন্দে ভরিয়ে তোলে। হামিদা মুর্তজা বলছিলেন, ‘আসলে এটা তো আপনারাও জানেন, ও ক্রিকেটকে কি দিছে, না দিছে। নিজের জন্য কখনোই খেলেনি। সবসময় দেশের জন্য খেলছে। আর ক্রিকেটকে কতদূর এগিয়ে এনেছে, এটা তো সারা বাংলাদেশের মানুষই জানে। যখন মানুষের মুখে ওর কথা শুনি, তখন অবশ্যই গর্ব হয়। মা হিসেবে মাথাটা উঁচু হয়ে যায়।’
অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মাশরাফি। তবে বোলার হিসেবে এখনও ২২ গজের চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন। মমতাময়ী মায়ের মন বলে, ছেলে আরো খেলুক। যতদিন তার সময় ও শরীর বিদ্রোহ না করছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে যতিচিহ্ন এঁকে দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা মাশরাফির জন্যই তুলে রাখতে বললেন হামিদা মুর্তজা।

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তিঃ

সন্ধ্যায় সিলেটের আকাশ ভেঙে শুরু হলো বৃষ্টি। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির দর্শকরা ছুটতে শুরু করলেন এদিক ওদিক। আবার কেউ কেউ উপভোগ করলেন জলের ছোঁয়া। তবে এক মুহূর্তও থামেনিমাশরাফি’, ‘মাশরাফি’ ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশচিৎকারের ধ্বনি। সকাল থেকেই এই চিত্র সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুপুর ২টায় খেলা শুরু। কিন্তু ১০টা থেকেই মাশরাফি বিন মুর্তজার নাম ধরে স্লোগান দিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেই ভিড় ঠেকাতে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তাও।
তবে দেশের সেরা অধিনায়কের প্রতি ভালোবাসার জোয়ার আটকানো বেশ কঠিন হয়। যারা টিকিট পাননি তারা ভিজেই অপেক্ষা করেছেন বাইরে। কারণ তাদের প্রিয় মাশরাফি এই ম্যাচেই ইতি টানছেন অধিনায়কত্ব অধ্যায়ের। কারণেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ সিলেট অনেকটা জায়গা করে নিবে টাইগারদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও। অধিনায়ক হিসেবে শেষ টস করলেন তিনি। যদিও তিনি এখনো অবসর নেননি। তবে তাকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ। রাজনীতিতে আসার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। তবে তার শেষটা ক্রিকেটপ্রেমীরা আরো একবার রাঙিয়ে দিয়েছেন অকৃত্রিম ভালোবাসায়। সিলেটে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার নেতৃত্ব অধ্যায়ের ইতি হলো ভালোবাসার বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েই।
 

Rana Bhuiyan

email: mhsebus64@gmail.com

http://ranabhuiyan.com/

 সূত্রঃ ইত্তেফাক, মানব জমিন,
 

Thursday, February 27, 2020

শচীন বড় ক্রিকেটার, কিন্তু বাচ্চাদের কিছু শেখায় না: ইনজামাম

শচীন বড় ক্রিকেটার, কিন্তু বাচ্চাদের কিছু শেখায় না: ইনজামাম
পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান ইনজামাম উল হক বলেছেন, তিনি বোলার শচীন টেন্ডুলকার কে সমীহ করতেন। ইনজি বলেন, ''আর কোনও বোলারের গুগলি খেলতে আমার তেমন সমস্যা হত না। কিন্তু শচীনের গুগলি খেলতে গিয়ে আমি অনেকবার আউট হয়েছি। সবাই ওকে বড় ব্যাটসম্য়ান হিসাবে মনে রাখবে। তবে আমি বলব, শচীন বোলার হিসেবেও দারুন। কখনও ও মিডিয়াম পেসার। কখনও আবার লেগ স্পিনার।''
শচীন টেন্ডুলকারকে নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করেছেন ইনজি। সেখানেই শচীনকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন ইনজামাম। পুরনো কথা বলতে গিয়ে ইনজি বলছিলেন, ''১৬ বছর বয়স থেকে বিশ্বের দক্ষ বোলারদের সামলেছে শচীন। ডেবিউ সিরিজের একটি ম্য়াচে মুস্তাক আহমেদকে ছক্কা মারে শচীন। তার পরই আবদুল কাদির শচীনের কাছে গিয়ে বলেছিল, ওকে বাচ্চা পেয়ে মারছো। আমাকে মেরে দেখাও দেখি! কাদিরকে মুখে কোনও জবাব দেয়নি শচীন, ঠিক পরের ওভারে কাদিরকে চারটি বাউন্ডারি মেরেছিল। আমার কাছে শচীন গ্রেট ক্রিকেটার।''
শচীনের ব্যাপারে একটি অভিযোগ রয়েছে তাঁর। ইনজি বলেছেন, ''যোগ্যতা ও প্রতিভার কথা উঠলে শচীনের ধারে কাছে কেউ নেই। তবে বাচ্চাদের ক্রিকেট শেখানো উচিত ছিল ওর। ক্রিকেট ছাড়ার পর শচীন একেবারে আলাদা হয়ে গেল। বাচ্চাদের ও আর কিছু শেখায়নি। এটা শচীনের মতো মহান ক্রিকেটারের কাছে আশা করা যায় না। আমার মনে হয়, এখনও সময় আছে। শচীনের এই ব্যাপারে ভাবা উচিত।''
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

Friday, February 21, 2020

সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান নিহত

বয়স মাত্র একুশ বছর। ছিলেন দারুণ সম্ভাবনাময়। নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়া সবশেষ দক্ষিণ এশিয়ান গেমসেও (এসএ) খেলেছেন। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহানুর রহমান সোহানের প্রাণ।
কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল ও স্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহানসহ আরও একজন। আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টার দিকে দৌলতপুরের হোসেনাবাদ সেন্টার মোড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আরেকজন হলেন হৃদয় খান জয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুজ্জামান জানান, সোহান ও জয় মোটরসাইকেলে চড়ে স্থানীয় একটি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। সকাল নয়টার দিকে তারা হোসেনাবাদ সেন্টার মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নসিমন গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দূরপাল্লার বাসকে অতিক্রম করতে যাচ্ছিলেন সোহান। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুর পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের নিয়ে আসা হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাপাতালে। হাসপাতালে মারা যান জয়। আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসকেরা সোহানকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু ঢাকায় আনার পথে মারা যান সোহান।
গত ছয় বছর বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় খেলেছেন সোহানুর। গত ডিসেম্বরে নেপালে হওয়া এসএ গেমসের বাংলাদেশ দলের প্রধান গোলরক্ষক ছিলেন সোহান। খেলেছেন পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক যুব হ্যান্ডবল ট্রফিতে।

Thursday, February 13, 2020

কক্সবাজার, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে আন্তর্জাতিকমানের আরো তিনটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে



 






যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, কক্সবাজার, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে আন্তর্জাতিকমানের আরো তিনটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে দেশে ৯টি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান।
স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে বেগম আবিদা আনজুম মিতার অপর এক প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেল সংসদকে আরো জানান, দেশের ৪৯১টি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১৬৭টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া  হয়ে থাকে।
সরকারি দলের সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে মোট ২৯৭টি ক্রীড়া স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার সুযোগ -সুবিধা দেয়া হয়।

রংপুরে আকবরকে বীরের সংবর্ধনা

Wednesday, February 12, 2020

বিশ্বকাপ নিয়ে ফিরলেন যুবারা

গত ৩ জানুয়ারি অনেকটা নীরবে দেশ ছেড়েছিল আকবর আলীর দল। ফেরার পালায় চিত্রটা পুরো ভিন্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন, বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে তাদের ফেরার দিনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছে ভক্ত-সমর্থকদের ঢল।
বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে দলকে বহনকারী বিমানটি। এখান থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যাবে বিশ্বজয়ীরা। তাদের বরণ করতে নতুন সাজে সেজেছে ‘হোম অব ক্রিকেট’।
লাল-সবুজে সাজানো একটি বাস দিয়ে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে যাবেন ক্রিকেটাররা। সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির আয়োজনে নৈশভোজে যোগ দেবেন তারা।
বিশ্বকাপের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পচেফস্ট্রুমে এক সপ্তাহের ক্যাম্প করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না; নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল ১১২ রানে গুটিয়ে গিয়ে হারতে হয়েছিল। দ্রুত নিজেদের সামলে নিয়ে মূল টুর্নামেন্টে উজ্জ্বীবিত ক্রিকেট খেলে তানজিম হাসান-রকিবুল হাসানরা।গ্রুপ পর্বে নিজেদের মেলে ধরে চূড়ায় থেকে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি। পরে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে জেতে শিরোপা; যে কোনো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা।
ফাইনালের পরদিন আইসিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। এবার বিশ্ব জয়ের মুকুট পরে ফিরল দেশে। সময়টা উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠার

Sunday, February 9, 2020

ছোটদের জয়ে বড়দের উচ্ছ্বাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মাশরাফি-আশরাফুল-আফতাবরা পারেননি, পারেননি মুশফিক-সাকিবরাও। ঘরের মাঠে সম্ভাবনা জাগিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মিরাজ-শান্ত-সাইফউদ্দিনরাও। তবে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচাতে পারলেন আকবর-শরিফুলরা। বাংলাদেশ এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। হোক না অনূর্ধ্ব- ১৯ দলের বিশ্বকাপ। আর তরুণ টাইগারদের বিশ্ব জয়ে উচ্ছ্বাস বইছে সারা বাংলাদেশে। পূর্বসূরিরাও উচ্ছ্বাস গোপন করেননি। সামাজিক মাধ্যমে ছোটদের অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দে সামিল হয়েছে তারাও।
আর উচ্ছ্বাসটা আরও বেড়ে গেছে ভারতকে হারানোয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ভারত যেন অধরা হয়ে উঠেছিল। এই তরুণরাই গত বছর ইংল্যান্ডে গ্রুপ পর্বে দুইবার হারিয়ে ফাইনালে গিয়ে হেরে যায়। এর আগে বড়রা বেশ কয়েকবারই আক্ষেপ নিয়ে ঘরে ফিরেছে। আর এ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ চারবারের চ্যাম্পিয়নও ভারত। এমন দিনে উচ্ছ্বাসতা একটু বাড়তি তো হবেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে অসাধ্য সাধন করে বাংলাদেশের যুবারা। রোমাঞ্চ ছড়ানোর এ ম্যাচে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল তরুণ টাইগাররা। মাঝে খেই হারিয়েছিল। তবে ভেঙে পড়েনি। অধিনায়ক আকবরের অসাধারণ ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে দারুণ জয় টাইগারদের। তাই তরুণ এ অধিনায়কে মজেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
ব্যক্তিগত ফেইসবুক প্রোফাইলে মাশরাফি লিখেছেন, 'অভিনন্দন বাংলাদেশ। বিশেষ করে আমাদের শহরের অভিষেক দাস, রকিবুল, শরিফুল, ইমনকে এবং দলের সকল খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফকে। আকবর তুমি সুন্দর। জানো কীভাবে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কতো বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য কি অসাধারণ মুহূর্ত।'
'আরও অনেক পথ যেতে হবে ছেলেরা। আশা করি তোমরা ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু অর্জন করে আনবে। এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করো। উপভোগ করো মিস্টার ক্যাপ্টেন আকবর। অভিনন্দন বাংলাদেশ।' - যোগ করে আরও লিখেছেন টাইগার অধিনায়ক।
পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে থাকা মাহমুদউল্লাহও অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি, 'কি অসাধারণ মুহূর্ত! বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! তোমাদের নিয়ে গর্বিত ছেলেরা। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে শুভেচ্ছা!'
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওপেনার তামিক ইকবালও, 'আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২০ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে অনেক অভিনন্দন। তোমারা আমাদের পুরো দেশকে গর্বিত করেছ।'
আর তরুণদের এ জয়ে যেন নিজেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, ‘কোন সংশয় ছাড়াই এখন বলতে পারি, বাংলাদেশের ক্রিকেটার হওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এতটা গর্ব কখনই অনুভব করিনি। অভিনন্দন সুপারস্টার্স!’